জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম

১৭

মোঃ রফিক ভূঁইয়া খোকা,ব্যুরো প্রধান,ময়মনসিংহঃ ৮.৩০ একর জমির ওপর নির্মিত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মসজিদ। ১৯৮২ সালে এ মসজিদকে জাতীয় মসজিদ ঘোষণা করা হয়। নির্মাণকুশলতায় মসজিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এটি অনেকটা কাবা শরীফের স্থাপত্যশৈলীর সাথে মিল। তাই এ মসজিদের প্রতি রয়েছে এ দেশের মুসলমানদের আত্মার বন্ধন।

তাছাড়া দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। জানা যায়, পাকিস্তানের প্রখ্যাত শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাইয়ের ছেলে ইয়াহিয়া বাওয়ানির সক্রিয় উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই মসজিদ নির্মাণের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। সাথে ছিলেন ঐ সময়ের এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এই মসজিদের ভিত্তিপ্রসস্তর স্থাপন করেন। নকশা প্রণয়ন করেন বিখ্যাত স্থপতি (পাকিস্তানের) আবুল হুসাইন জারিয়ানি। প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন মনিরুল ইসলাম। সর্বমোট আট তলাবিশিষ্ট মসজিদ হলেও মসজিদের জন্য ব্যবহৃত হয মোট ছয় তলা। নিচতলায় প্রধান নামাজ ঘর। এর আয়তন ১১,০২৩ বর্গফুট। সাথে আছে প্রশস্ত বারান্দা। মসজিদের পূর্বদিকে আছে খোলা চত্বর যার আয়তন ২৯ হাজার বর্গফুট। লোকজনের সমাগম বেশি হলে এই চত্বরটি ব্যবহার করা হয়।

সুন্দর ও বড় আয়তনের দুটি ওজুখানা, শিল্পসুষমা মণ্ডীত মেহরাব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকের সুদৃশ্য গেট, মহিলা নামাজ কক্ষ, দোকান কমপ্লেক্স ইত্যাদির সম্মেলনে মসজিদটি একটি অনন্য উপাসনাগৃহ ও স্থাপত্য নিদর্শন।

ভবিষ্যতেও এই মসজিদটি বাংলাদেশ তথা এ দেশের আপামর মুসলিম জনসাধারণের জন্য পার্থিব ও অপার্থিব কল্যাণে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দেশবাসীর প্রত্যাশা।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.