জলঢাকায় ১৯ পরিবারের ৬৫টি বসতঘর অগ্নিকাণ্ডে, পুড়ে খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবার গুলো।

২৮

রুবি আক্তার, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

শীতের রাতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বেরুবন্দ বালারপুকুর গ্রামে বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ১৯ পরিবারের ৬৫টি বসতঘর নিমিষেই ছাই হয়ে গেছে। ধান চাল, পিয়াজ, আলু কাপড় জামা ও নগদ টাকাও জ্বলে যায়। এ ছাড়া ৭টি ছাগল,একটি বাছুর, ৫৬টি কবুতর, দেড়শতাধিক হাঁসমুরগী আগুনে পুড়ে মারা যায়। এক কথায় পরিবারগুলো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ঘটনার সময় এলাকায় ভারী কুয়াশা ছিল। কিন্তু হিমেল হাওয়ায় আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। প্রথমে স্থানীয় মানুষই পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু লেলিহান শিখার তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিকূল হয়ে ওঠে।

তিনি জানান, গ্রামের নারায়ন চন্দ্র রায়ের বাড়ির রান্না ঘরের চুলা থেকে প্রথমে আগুনের সুত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত তা ছাড়িয়ে পড়লে পাশের বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরন ঘটে আগুন আরো বেড়ে যায়। ঘন কুয়াশার কারনে নীলফামারী সদর ও জলঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগ্নিকা্ণ্ডের স্থানে পৌছাতে দেরি হওয়ায় ১৯ পরিবারে ৬৫টি বসত ঘর সহ পরিবারগুলোর সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমান দাড়ায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান জানান রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা, কম্বল ও গরম কাপড় সহ শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়। তিনি আরও জানান আজ বৃহস্পতিবার সকাল হতে পরিবারগুলোকে ত্রিপল দিয়ে ঘর বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সরকারি ভাবে তাদের অনুদান প্রদান সহ ঘর তৈরী করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.