গৃহহীন মেয়ের ঘরের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও

১৫

আনসার আলী,লালমনিরহাটঃ সুখের সংসার ছিল শিল্পী বেগমের-বাবা ছিলেন এক সময়কার শিক্ষা কর্মকর্তা।
মাত্র সাত বছর বয়সে মাকে হারান শিল্পী বেগম নামের এই মেয়ে। পরে বাবার মৃত্যুর পর সৎমায়ের অত্যাচারে ঘর থেকে বের হয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় আব্দুল কাদের নামের এক স্কুলশিক্ষক তাকে বাধা দিয়ে নিজ বাড়ি নিয়ে আসেন। এরপর অনেক কষ্টে দিন কাটে শিল্পী বেগমের।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার চওরাটারী গ্রামে একটি কুঁড়েঘরে ৪০ বছর ধরে বাস করছেন। তিনি-তার নিজ বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায়। তিনি সাবেক সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) মৃত হাবিবুর রহমানের মেয়ে।
এরপর এক সময় শিল্পী বেগম বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে গান গেয়ে শিশুদের আনন্দ দিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। এভাবে ৩০ বছর কেটে গেছে তার-এখন তার সেই বয়স নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। বর্তমানে তার দিন কাটছে অবহেলা-অযত্নে এক ছোট্ট কুঁড়েঘরে।
৫০ বছর বয়সের শিল্পী বেগম সকাল থেকে সন্ধ্যা মানুষের কাছে চেয়ে যেটুকু চাউল ডাল পেত তা দিয়ে অতি কষ্টে কাটতো তার দিন।

শিল্পী বেগমের অসহায় অবস্থা দেখে-লালমনিরহাটের আদিতমারীর সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস এলাকার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সাইয়েদা বেগম শিল্পী বেগমের নামে দুই শতক জমি দান করেন। এরপর সারপুকুর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা (অটিস্টিক) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুখশানারা সুলতানা মুক্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনছুর উদ্দিন।

এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনছুর উদ্দিন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.