গুম হত্যার জঘন্য ইতিহাস, জাতির জন্য অশনিসংকেত

১১৪

মোঃ জহিরুল ইসলাম

সম্রাট আলমগীরের রাজত্বকালে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে মারাঠা জাতি নামে এক যাযাবর দস্যু জাতির উত্থান হয়।তারা রাতের অন্ধকারে গ্রাম ও শহরে অতর্কিতভাবে হামলা করে ধন-দৌলত,অর্থ-সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যেত।যাযাবর এই দস্যু মারাঠা জাতি ইতিহাসে আজো কুখ্যাত হয়ে আছে।আবার আমাদের এই বাংলাদেশ তথা পূর্ব বঙ্গদেশে পর্তুগীজ মগ দস্যুর মত মারাঠা বর্গী জাতিও কুখ্যাত ছিল।তারাও গ্রাম ও শহরবাসীদের উপর চড়াও হয়ে লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে অর্থ-সম্পদ লুটে নিত।

তবে আশ্চর্যের একটা বিষয় হলো,মারাঠা-মগ-বর্গী নেতারা যে অঞ্চলে লুটতরাজ চালাত, সে অঞ্চলের প্রধান ব্যক্তিত্ব কিংবা গোষ্ঠী নেতাকে পূর্বেই হত্যা করত কিংবা ঐ অঞ্চল থেকে তাদের সড়িয়ে ফেলতেন,যাতে করে তারা ঐ অঞ্চলে সহজেই লুটতরাজ করতে পারে।এটা এক প্রকার গুম কিংবা গোপন হত্যা ছিল।কিন্তু তারা এই জঘন্য কাজটা করত শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদ লুটে নেওয়ার জন্য।তাদের বিভীষিকাময় অত্যাচারে মানুষ এতটাই আতঙ্কগ্রস্থছিল যে,বাংলার মায়েরা তাদের কঁচি কঁচি বাচ্চাদের কান্না থামানোর জন্য আজো আশ্চর্য হয়ে ছড়া কাটেন,

“ছেলে ঘুমাল পাড়া জুড়াল,
বর্গী এলো দেশে।
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে,
খাজনা দিব কিসে”

তবে আধুনিক বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে আলেম-ওয়ালামা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা সুশীল ব্যক্তিরা গুম কিংবা হত্যা হওয়ার পিছনে কারণটা কী?নাকি তারাও মারাঠা-মগ-বর্গীদের মত এক আতংকিত ঘোমট জাতি?মারাঠা-মগ-বর্গীদের উদ্দেশ্যছিল অর্থ লুটে নেওয়া আর এই ঘোমট জাতির উদ্দেশ্যটা কী জাতিকে আতংকিত করে দমিয়ে রাখা?নাকি বৈদেশিক ভিন্ন কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা?
যাইহোক,এদের ঘোমর উন্মোচন করতে ব্যর্থ হলে,এই বাংলার মায়েরাই আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কঁচি কঁচি বাচ্চাদের সান্ত্বনা দিতে ছড়া কাটবেন,

“সকাল গিয়েছে, বিকেল গিয়েছে,
বছর চলে যায়।
দ্বার খুলে কেন খোকা চোখ মোছো হায়!
ঘোমট জাতি বাবাকে নিয়েছে, আর ফিরবে না,
তুমিই আমার শেষ সম্বল, ঘুমাতে আসো না”।

100% LikesVS
0% Dislikes
1 Comment
  1. Anwar Hossain Badol says

    লেখাটি আরও বড় করা যেত

Leave A Reply

Your email address will not be published.