কোরআন হাদীসের আলোকে ই’তিকাফের গুরুত্ব ও ফযিলত

0
13

এম মিরাজ হোসাইন,ভোলাঃ ইতিকাফ’ আরবি শব্দ, অর্থ হলো অবস্থান করা, আবদ্ধ করা বা আবদ্ধ রাখা। পরিভাষায় ইতিকাফ হলো ইবাদতের উদ্দেশ্যে ইতিকাফের নিয়তে নিজেকে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রাখা। যিনি ই’তিকাফ করেন তাঁকে ‘মুতাকিফ’ বলে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলনস্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ‘মাকামে ইবরাহিম’কে নামাজের জায়গা বানাও এবং আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। আর যতক্ষণ তোমরা ই’তিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করো, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সীমানা।

অতএব, এর কাছেও যেয়ো না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা তাকওয়া লাভ করতে পারে। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১২৫)।
হজরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) আজীবন রমজানের শেষ দশকগুলো ইতিকাফ করেছেন। তাঁর ওফাতের পরও তাঁর বিবিরা ইতিকাফ করতেন। (বুখারি ও মুসলীম)।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, রমজান মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসে একটি ফরজের সমতুল্য এবং এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য। এসব কিছু নির্ভর করে ইবাদতকালে একাগ্রচিত্রতার উপর। ইতিকাফ মুর্হুতে যেহেতু এ প্রবল থাকে তাই সওয়াব বেশী হওয়া স্বাভাবিক। রমজানে তারাবীহ, নফল নামায, কুরআন অধ্যয়ন,যিকির ফিকির, তাসবীহখানি ইত্যাদি কাজ হুকুমের দিক থেকে অপরিহার্যতার পর্যায়ভুক্ত না হলেও আরও নানান দিকের বিচারে এগুলোর সওয়াবের পরিমাণ রমযান মাসে অধিক হয়ে থাকে। যেমন পবিত্র কুরআনে প্রিয় বান্দার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তারা আপন প্রভুর উদ্দেশ্যে নামাযে দন্ডায়মান এবং সিজদার মধ্য দিয়ে রাত্রি যাপন করো।

ই’তিকাফের দিনসমূহ:
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ই,তিকাফ করতেন। < সহীহ বুখারী, মুসলীম >
হাদিসটির ব্যাখ্যাঃ
রাসূলে করিম ( সঃ) এমনিতেই সবসময় আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকতেন। কিন্তু রমযানের তাঁর এ বন্দেগীর ঝোঁক ও প্রবণতা আরো বহুগুনে বেড়ে যেতো। এর মধ্যে আবার শেষ দশ দিন একান্তভাবে আল্লাহর ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন। তিনি মসজিদে গিয়ে নফল নামায, কোরআন তিলাওয়াত,যিকির – আযকার ও দোয়া কালামে মগ্ন থাকতেন। রমযান হলো মু,মিনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার মাস তাই তিনি এ মাসে একাজগুলো করতেন। কেননা এ মাসে অর্জিত ঈমানী শক্তি দিয়েই আগামী ১১টি মাস শয়তানী ও আল্লাহদ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হতে হবে।

অন্য হাদীসে হযরত আয়শা ( রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ রাতে বেশি বেশি জাগতেন,পরিবার পরিজনকে জাগাতেন এবং ইবাদাতের জন্য পরিধেয় শক্তভাবে বেঁধে নিতেন।

শেষকথা হলো, ইতিকাফের গুরুত্ব, বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা হৃদয়ে জাগ্রত করে অন্তত দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য মসজিদে প্রবেশ কালে ইতিকাফের নিয়ত করা উচিৎ। এতে যতক্ষণ মসজিদে থাকবে, একেবারে নিরব বসে থাকলেও ইতিকাফের সওয়াব পাবে। আর যদি কোন আমল করে তার সওয়াব তো আলাদা থাকবেই। মহামহিম আল্লাহ সকল মুসলিম উম্মাহকে এই মহান আমলটিকে যথাযথ কদর করার তাওফিক দান করুন।

উল্লেখ্য, ২০ শে রমযানের সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ দেখার পূর্ব পযর্ন্ত পুরুষের জন্য মসজিদে আর নারীর জন্য নিজ গৃহের নামাযের নির্ধারিত স্থানে ই’তিকাফের নিয়তে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। এটি হলো সুন্নাত ইতিকাফ। এ ছাড়াও ইতিকাফের আরও দুটি প্রকার রয়েছে-

১.ওয়াজিব ইতিকাফ। ই’তিকাফের মান্নত করলে তাকে ওয়াজিব ই’তিকাফ বলে। যে কয় দিনের মান্নত করবে রোযাসহ সে কয় দিনের ইতিকাফ আদায় করা ওয়াজিব।
২. নফল ই’তিকাফ। যার কোন সময় সীমা নেই। সারা জীবনের নিয়ত করলেও জায়িয আছে আবার এক মিনিট বা তারচে’ কম সময়ের নিয়ত করলেও জায়িয আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here