কেন চলে গেলেন তিনি?

১১১

মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর থেকে নাসিম কনক তুলে এনেছেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজাহারী জীবনের বর্তমান ও আগামী বিস্তারিত পড়ুন।।

একটি কথাও বলেনি হুজুর সব তার বর্তমান কাছের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য আদর্শিক বিবেচনায়।
ভুল হলে মার্জনা করবেন নাসিম কনক সাহসী কন্ঠ মালয়েশিয়া।

এ কেমন মানুষ। নেই কোন অভিমান। ইসলামের জন্য সমস্ত ধ্যান কর্ম।অত্যান্ত সাধারণ জীবনধারন হাসি খুশী সময় পাড় করছে মাওলানা মিজানুর রহমান । সমস্ত সময় ব্যায় করছে মানব কল্যানে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার রয়েছে বিশাল আস্তা। বাংলাদেশের মানুষ তাকে অনেক ভালোবাসে সে অনুভব করে। তার ওয়াজমাহফিল শুনতে দিন এগারোটায় লক্ষ জনতা ছুটে এসেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন।
সবই স্বাভাবিক একবারের জন্য মনে হয়নি তাকে এ দেশ থেকে চলে যেতে হয়েছিল কোন কারনে ।
এ কেমন মানুষ কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তার কাছে আসমান জমিনের মালিকের কাছে।
বর্তমান দেশের অবস্থায় তার চোখ আছে। সে মনে করে দেশে ইসলাম শান্তি আসুক। যে দিন তার ডাক আসবে সে সে ফিরে আসবে প্রিয় জন্মভূমিতে। সব তার ইচ্ছা।

পাশের একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এ দেশের একটি শক্তি তাকে সময় দেয়নি গুছিয়ে নিতে তাই অনেক ওয়াজ-মাহফিল সিডিউল অনুযায়ী শেষ করতে পারিনি মহান এ ইসলামি স্কলার। কোন রাগ নেই নেই অভিমান। এ কেমন মানুষ। কি আছে সদ্য যৌবনে পদার্পণ করা এ মাহান মানুষের। সাহসী কন্ঠ তার জীবন কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে আরো খবর তুলে আনবে তবে। মুখফুটে না বললে আমরা কিভাবে বুঝবো তার রাগ অনুরাগ আবেগ।
সাহসী কন্ঠ মালয়েশিয়া তার পাশে থাকবে। সকল খবর সংগ্রহ করে হুজুরের কোটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেবে।

তরুণদের আইডল, সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ বক্তা, ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি অল্প কয়েকদিনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে যে ক’জন ইসলামি চিন্তাবিদ রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

জন্ম: মিজানুর রহমান ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে। তার বাবা একজন মাদরাসার শিক্ষক। তার পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছে।

শিক্ষাজীবন: মিজানুর রহমান ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিসর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট করার জন্য মিসরে যান। সেখান থেকে ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স থেকে ২০১২ সালে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স উত্তীর্ণ হন। মিসরে পাঁচ বছর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া যান। সেখানে গার্ডেন অব নলেজ খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কোরআন অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮২ আউট অব ফোর।

গবেষণা: পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালের মধ্যে এমফিলও শেষ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘হিউম্যান এম্ব্রায়োলজি ইন দ্য হোলি কুরআন’। তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। ‘হিউম্যান বিহ্যাভিয়ারেল ক্যারেক্টারইসটিক্স ইন দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল স্টাডি’র ওপর পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার এমফিল এবং পিএইচডির মাধ্যম ছিল ইংরেজি। এছাড়া আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ওভারঅল ৭.৫ আউট অব ৯ ব্যান্ড স্কোর এবং স্পিকিং সেকশনেও ৭.৫ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করেন।

উপাধি: মিজানুর রহমান তার নাম। তবে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তার নামের সাথে ‘আজহারী’ উপাধি যুক্ত হয়েছে।

দাম্পত্য জীবন: মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

তরুণদের আইডল: ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও নিজেকে স্মার্টভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা মিজানুর রহমান আজহারীকে দেখলেই বোঝা যায়। তাই এ সময়ের যুবকরা তাকে খুবই পছন্দ করে। তার তাফসির মাহফিলে যুবকদের স্রোত দেখা যায়। তিনিও যুবকদের খুবই পছন্দ করেন। তাফসির মাহফিলে যুবকদের ভালো পথে চলার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়তা: খুব অল্প সময়ে সুললিত কণ্ঠে কুরআন-হাদিসের সহজ-সাবলীল আলোচনা করে অসংখ্য মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তার গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ। যে কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ তার আলোচনা বুঝতে পারে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন।

উপার্জন: সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে তার একটি ফেসবুক আইডি ও একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন না। হাদিয়া হিসেবে যা পান তা-ই নিয়ে থাকেন। বছরের বেশিরভাগ সময় মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে পিএইচডি করছেন। সময় পেলে তাফসির মাহফিল করেন। এছাড়া বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন।

আজ বিশ্ব পরিমন্ডলে তার নাম ছড়িয়ে পরেছে।

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.