উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে কমলার বাম্পার ফলন

৩৭

আল আমিন,পঞ্চগড়ঃ পাট,ভূট্টা,বাদাম, সুপারি,চা এর পর পঞ্চগড়ের অন্যতম অর্থকারি ফসল কমলা। পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারি, তেতুলিয়ায় চাষ হচ্ছে কমলা।

পঞ্চগড়ের কমলার আকার বড় ও সুমিষ্ট হওয়ায় বাজারে এগুলা দার্জিলিং এর কমলা বলেই বিক্রি হচ্ছে। নভেম্বরের শেষ থেকেই কমলা বাজারে উঠতে শুরু করে। পাকা কমলায় ভরে গেছে গাছের শাখা-প্রশাখা এবং জেলার শতাধিক বাগান।

একেকটি গাছে দুইশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত কমলা ধরেছে। কমলার রঙে রঙিন হয়েছে বাগানগুলো। এবার কমলার ফলনে চাষিরা খুশী। পঞ্চগড়ে শুধু খাসিয়া জাতের কমলার চাষ হয়।
কমলা চাষ পুষ্টিচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জেলার পর্যটনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কমলা চাষি ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পঞ্চগড়ে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। অনেকেই পঞ্চগড়ের কমলাকে ভারতের দার্জিলিংয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। ৮-১০ বছর আগের কথা। অনেকটা শখের বশে জেলার অনেক মানুষ বাড়ির পাশের খালি জায়গায় কমলার চারা লাগান। কয়েক বছর পরেই সেসব গাছে কমলা ধরতে শুরু করে। তা দেখে উৎসাহিত হয় আশপাশের লোকজন। এভাবে বাড়তে থাকে কমলা চাষ। পরে অবশ্য কৃষি বিভাগ কমলা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে কমলার চাষকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে শুধু খাসিয়া জাতের কমলার চাষ হয়। শীত বেশি হওয়ায় পঞ্চগড়ের মাটি ও পরিবেশ কমলা চাষের জন্য অনন্য।

অনেকে বলছেন, পঞ্চগড়ের কমলা সিলেটের কমলার চেয়েও ভালো। কমলার ফলন ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়ে। ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে এবং ২৫-৫০ বছর পর্যন্ত ফলন আস্তে আস্তে কমে যায়। ২০০৬-১১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্পের অধীনে ২২৩টি বাগানে ৩৪ হাজার ৮৮৮টি কমলার চারা রোপণ করা হয়।

এছাড়া, বসতবাড়ির আশপাশে রোপণ করা হয় এক লাখ ৫৬ হাজার চারা। ১৫ হাজার কমলা চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের শেষে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে ২০১৪-১৫ সালে আবার সিডিপি (সাইটরাস ডেভলভমেন্ট প্রকল্প) নামে এ প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় চারা, সার, কীটনাশক ছাড়াও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কমলা চাষিদের। ৯৩৫টি বসতবাড়িতে ১২টি করে চারা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিলুপ্ত ছিটমহলেও কমলা চাষ শুরু করা হয়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় দুইশ মেট্রিক টন এবং আগামী মৌসুমে ৫শ মেট্রিক টন কমলার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে কমলা নতুন ধরনের ফসল। এ জন্য সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখা দরকার বলে চাষিরা জানান।

ভালো ফলন দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা,অনেকেই সুপারির বাগানে সমন্নীত ভাবে কমলা চাষ করছেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.