ঐতিহাসিক বড় আমগাছ ঠাকুরগাঁওয়ে

২০

প্রতিবেদক
মোঃমোকসেদুর রহমান,(জেলা কো-অর্ডিনেটর)
ঠাকুরগাঁওঃ
বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে মন্ডুমালা গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক আমগাছটি প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে উঠে আজ ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে নয়,এই আমগাছটি এখন বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোটা দেশে। প্রথমে দেখতে এই গাছটি বটগাছের মত বিশাল আকৃতি দেখে অনেকেই ভুল করে বসেন। বট গাছের মত বিশাল আকৃতির হলেও গাছটি আসলে বটগাছ নয়, এটি একটি আমগাছ। গাছের মূল থেকে ডালপালাকে আলাদা করে দেখতে চাইলে রীতিমত ভাবতে হয়। আমগাছটির ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য শুধু দেশের পর্যটক নয়, বিদেশের অনেক অতিথিকেও আকৃষ্ট করে। শত ব্যস্ততার মধ্যে একটু সময় করে ছুটে গিয়ে চোখ জুড়ানোর লোভ সামলাতে পারেন না তারা। ব্যতিক্রমী এই আমগাছ পশ্চাৎপদ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাকে বিশ্বের কাছে আজ পরিচিত করে তুলেছে এবং পরিচিতি বিস্তার লাভ করেছে ঠাকুরগাঁও জেলাকে।সূর্যপুরী ঠাকুরগাঁও এর মানুষের প্রিয় একটি আমের জাত। সুস্বাদু, সুগন্ধী, রসালো আর ছোট ছোট আটি জাতটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য । সেই সূর্যপুরী জাতের লতা বোম্বাই জাতীয় লতানো বিশাল আকৃতির আমগাছটি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন বিঘারও বেশী জায়গা জুড়ে। উচ্চতা আনুমানিক ৮০-৯০ ফুট। আর পরিধি ৩৫ ফুটের কম নয়। মুল গাছের ০৩ দিকে ১৯টি মোটা মোটা ডালপালা বেড় হয়ে আছে অক্টোপাসের মত।
সূর্যপুরী জাতের আম গাছ
সবচেয়ে অদ্ভুত দিক হলো গাছটির ডাল। এগুলো মূলকাণ্ড থেকে বেরিয়ে একটু উপরে উঠে আবারও তা মাঠিতে নেমে গেছে। তারপর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উপরে উঠেছে। দেখতে অনেকটা নদীর ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু। মূলকাণ্ড থেকে বেরিয়েছে ২০টি শাখা। মূলকাণ্ড থেকে বের হওয়া ডালগুলো একেকটি মাঝারি সাইজের আম গাছের আকৃতির মতো।

উত্তরের শান্ত জনপদের সাক্ষী গাছটির শাখাগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ ফুট। গাছের প্রতিটি ডালে চাইলে অনায়াসে হাঁটাচলা ও বসা যাবে। কিন্তু গাছের সামনে নোটিশে লেখা, ‘গাছে ওঠা বা পাতা ছেড়া নিষেধ।’

এই আমগাছের বয়স প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি। এর বর্তমান মালিক দুই ভাই সাইদুর রহমান ও নূর ইসলাম। তারা বলতে পারেন না ঠিক কবে গাছটির চারা রোপণ করা হয়েছিল এবং স্থানীয় লোকেরা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।

ধারণা করা হয়,উপমহাদেশ জুড়ে সূর্যপুরী জাতের এত বড় আম গাছ আর নেই। ফলে এটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এবং দুই ঈদে তাদের উপস্থিতি থাকে বেশি। বিদেশি পর্যটক অনেকে এতে আকৃষ্ট হন।

জনপ্রতি ২০ টাকা করে টিকিট কেটে আম গাছ দেখতে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। টিকিটের টাকা থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবার চলে ও গাছটির পরিচর্যা করা হয়। আগামীতে দর্শনার্থীদের জন্য পিকনিক স্পট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

জানা গেছে, এই ২০০ বছরের বেশি বয়স হলেও গাছটিতে আমের বাম্পার ফলন হয়। প্রতি বছর প্রায় ৮০ মণের বেশি আম পাওয়া যায়। এগুলোর মূল্য বাজারের অন্যান্য আমের চেয়ে দ্বিগুণ। আমের মৌসুমে গাছের পাশেই তা বিক্রি করা হয়। তখন এখানে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসে। সুস্বাদু, সুগন্ধি, রসালো আর ছোট আটি সূর্যপুরী আমের বৈশিষ্ট্য।

*কিভাবে যাবেনঃ*
সড়কপথে ঢাকা থেকে বালিয়াডাঙ্গীর দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বাসে চড়ে সরাসরি সেখানে যাওয়া যায়। আকাশপথে কিংবা ট্রেনে গেলে সৈয়দপুরে নেমে সড়কপথে দিনাজপুর গিয়ে তারপর বালিয়াডাঙ্গী যেতে হবে। সেখান থেকে ভ্যান, বাস বা মিশুক নিয়ে হরিণমারি বাজার হয়ে ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আম গাছের কাছে যাওয়া যাবে। তবে মাথায় রাখতে হবে, জায়গাটি শহর থেকে ভেতরে হওয়ায় ও জনপদ কম থাকায় সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না। তাই যাওয়ার সময় গাড়ি রিজার্ভ করে নিলে ভালো।
কিন্ত সমস্যা হচ্ছে যে,এখানে রাস্তাঘাট খারাপ থাকার কারনে এখন পর্যন্ত এই এলাকায় ভাল কোন হোটেল,রেস্তোরাঁ এবং কোন রেস্ট হাউজ নেই।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.