একটু পরশ!ভালোবাসা

৪৩

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম

খুব সম্ববত ঢাকা কলেজের মূল গেইটের দিকে মুখ করে দাঁড়ালে ঠিক আমার হাতের ডান দিকে, আমি নিশ্চিত নই আবার বেশি দিনও হয়নি।আমি হাঁটতেছিলাম খুব তাড়াছিল।ঐদিক টায় এত তাড়া থাকে মানুষের যে,মানুষের সাথে ধাক্কা লাগাটাই স্বাভাবিক।আর ধাক্কা লাগলেই সরি বলে সামনের দিকে চলা শুরু।
যাইহোক, আমার হাঁটার সময় আমার এক খুব ভালো বন্ধু আমাকে ফোন করে বলল,বন্ধু আজকে পরিক্ষা হবে না।আমি কথাটা শোনামাত্রই আমার হাঁটার গতি যতটাছিল তার চাইতে কিছুটা কমালাম।সাথে সাথেই ঠিক আমার পিছনে থাকা এক ভাইয়ের সাথে লাগে এক ধাক্কা,ফলে আমার কথা বলার মোবাইলটা রাস্তায় পড়ে পার্টস গুলো আলাদা আলাদা হয়ে যায়।তবে আশ্চর্যের বিষয়টা হলো ঐ ভাইয়ের গতিটাছিল ঠিক আমার পূর্বের গতির মতই।আমি বললাম,ভাই এত বড় একটা ঘটনা ঘটলো আর আপনি একটু না দেখেই চলে যাচ্ছেন।ভাইয়ের উত্তরটাছিল,সমস্যাটা আপনি করছেন তাই আপনারি আমার কাছে সরি বলা উচিত।তার কথা শুনে আমার রাগ চিন্তায় রুপান্তরিত হলো।এরই মাঝে মোবাইলের পার্টস গুলো লাগানোর পর চালু করলাম কিন্তু অন্ধকার শুধু অন করার সময় শব্দটা পেলাম।এক বা দুই মিনিট পর একটা কল আসল, কে আমি জানি না,কোথায় চাপ দিলে রিসিভ হবে বা টাচ করলে আমি কথা বলতে পারব কিছুই বুঝতেছি না।ভাই আমি বলে বুঝাতে পারব না আমার রাগ তখন কতটা ছিল।একটা নতুন বা পুরাতন মোবাইল কিনব কিভাবে সেই চিন্তা করতেই আমার রাগ আরো বাড়তেই লাগল।ভাইয়াকে বলব, না,শুধু শুধু কথা শুনতে হবে।আবার সান্ত্বনা দেই এমনেতেইতো ভাইয়ার কাছ থেকে প্রতিমাসে টাকা আনি, আবার যদি বলি মোবাইল কিনার জন্য টাকা…..!!!ভাবতে ভাবতে ঠিক ঢাকা কলেজের সামনেই দেখি ঝালমুড়ি, ভাবলাম ঝালমুড়ি খাই আর কাঁন্দি কেউ বুঝবেই না আমি কাঁদতেছি।সত্যিই ভাই একদম সত্যি মরিচের ঝাল আমার কাছে ঝালই মনে হইতেছিল না।আমি মরিচ খাইতেছি না মুড়ি সেই দিকে আমার কোন খেয়ালই নাই,চিন্তা একটাই এই মুহূর্তে আমি মোবাইল কিনার টাকা পাব কোথায়।বিশ টাকা ঝালমুড়ির দাম দিয়ে বাসার দিকে রওনা করলাম। ঢাকা সিটি কলেজের সামনে মোহাম্মাদপুরের গাড়ীর জন্য দাঁড়িয়ে আছি।এমন সময় এক অশীতিপর বৃদ্ধা (৮০ বছরের বেশি বয়স) আমার কাছে এসে বলল,বাবা কিছু টাকা দিবি কিছু খামু।আমি তার চোখের দিকে তাকাই ঠিক চোখের কালো যে পাথরটা আছে ঠিক তার দিকে।চোখে কোনো রকমের বয়সের ছাপ নাই।বোঝার কোন উপায় নাই যে,তার কাছে খাওয়ার টাকা নাই।অসম্বব পরিমান মায়া লেগে গেল।আমার আগের রাগটাও কমে গেল। আকাশের দিকে তাকালাম আর কোন প্রকার আগ বাক চিন্তা না করেই বললাম কি খাবেন।সিটি কলেজের সামনে হোটেলের দিকে তাকিয়ে বলল কি আর খামু বাবা দুপুরে কিছুই খাই নাই।আমি বললাম ভাত খাবেন?মুসকি হেঁসে বলল,তুমি কি এত টাকা দিবা বাবা?আমার উত্তর ছিল, আপনি খাবেন কিনা বলেন,,,,?সম্মতি চিহ্নস্বরূপ একটু মুসকি হাঁসি পেলাম।
উনি খায়তেছে আর আমি তার সামনে বসে আছি।
ভাই উনার চোখ আর আমার উপলব্ধি নিয়ে একটু কথা বলি, চোখ এমনেতেই সু্ন্দর সবারই।চোখ যে মনের কথা বলে তা প্রথমবার বুঝতে পারলাম। আগে না বুঝার কারণ মনে হয় বুদ্ধিমানরা বুঝতে পারছেন।
এই চোখ দিয়ে আমরা কত কিছুই না দেখি।কেউ ভালো আর কেউবা মন্দ,কি জায়েজ কি নাজায়েজ সবই আমরা এই চোখ দিয়েই দেখি।
চোখে দেখে কাউকে ভালো লাগে।পরে তার প্রতি চিন্তার সঞ্চার হয়।এক সময় প্রবল আকর্ষণ। এই আকর্ষণই ধাবিত হয় নাম না জানা এক সম্পর্কের দিকে।দুজন দুজনার জন্য কত কিছুই না আমরা করে ফেলি।রচনা করে ফেলি কল্পিত লাইলি-মজনুর প্রেম কাহিনীর চাইতেও বড় উপাখ্যান। অসাধ্য সাধন করার জন্য প্রস্তুত শুধু তোমার জন্য।আমাদের সংসার হবে এই রকম ঐরকম ইত্যাদি কত না মোহনীয় কথা।যেহেতু সংসার হবেই তাই সাংসারিক কিছু কর্ম করতেও দ্বিধাবোধ করি না।নাম না জানা এক সম্পর্কে নিজেদের জড়িয়ে ফেলি।কলুষিত করে ফেলি এক মহা পবিত্র শক্তিকে।যে শক্তির বলে পৃথিবীতে আসে মহামানব, মহা সমাজ সংস্কারক। যা আজ পরিণত হয়েছে ধোকা আর মিথ্যা আশ্বাসের ভালোবাসায়।আর যার ফল অনুমিত,হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে শুরু করে রাস্তার ডাস্টবিন ও বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় নাম পরিচয় না জানা শিশু।
ভাই!!!চোখে না দেখেও তো মায়া লাগানো যায়।চোখে না দেখেও ভালোবাসা যায়।আমরা অনেক কিছুই চোখে দেখি না বা দেখি নাই কিন্তু তারপরও পাগলের মত ভালোবাসি,ভক্তি করি আর সেই ভালোবাসা কখনোই কমে না বরং বাড়ে।
তাইতো মোগল সম্রাট আলমগীর এর কন্যার সাক্ষাত লাভের জন্য পারস্যের সম্রাট চিঠি পাঠালেন,আর কন্যার উত্তরছিল,,,ফুলের ঘ্রাণের মত লুকিয়ে থেকে ছড়াতে চাই আমার ভালবাসা,,।ভালোবাসা দিবস দিয়ে হয় না বরং হয় নোংড়ামি।
উনি খায়তেছে আর আমি এই সব ভাবতেছি।
হঠাৎ এমন সময় আমার মোবাইলের রিংটোনটা বেঁজে উঠল।আমি আমার চোখ ডান হাত দিয়ে কচলাতে কচলাতে মোবাইলটা রিসিভ করলাম, ভাইয়া ফোন করছে,বলল তোর বিকাশ নাম্বারে পাঁশশ(৫০০) টাকা দিছি দেকতো গেছে কিনা।আমি বললাম ঠিক আছে দেখতাছি।
কথাটা শেষ করেই দেখি আমার মোবাইলটা পুরোপুরি ভালো।আর একটু মুসকি হেঁসে ভাবলাম আমি তাহলে এতক্ষণ কই ছিলাম…..!!!!!!”””!!!!!!

100% LikesVS
0% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.