উন্নয়নের পথে কামালপুরের স্থলবন্দর( দ্বিতীয় ধাপে প্রতিবেদন)

১২

মেহেদী হাসান
জেলা প্রধান, জামালপুর, দৈনিক সাহসি কন্ঠ।

বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের স্থলপথে আমদানি-রফতানি তথা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে কয়টি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ঘোষিত স্থলবন্দরের মধ্যে ধানুয়া কামালপুর অন্যতম এটির অবকাঠামো সুবিধা বাড়াতে ‘ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৫ দশমিক ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, এক হাজার ৪৬ বর্গমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, দুই হাজার বর্গমিটার অ্যাপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ, পাঁচ হাজার বর্গমিটার ওপেন ইয়ার্ড তৈরি, ছয় হাজার ১৮৯ বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড, ৩৭২ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস, ৭০০ বর্গমিটার ট্রানশিপমেন্ট শেড, ৫৬২ বর্গমিটার অফিস ভবন, ৩৩৫ বর্গমিটার ডরমিটরি ভবন এবং ১৮৭ বর্গমিটার ব্যারাক ভবন তৈরি ও একটি ওয়েব্রিজ স্কেল ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ একনেকের জন্য তৈরি করা প্রকল্পটির সারসংক্ষেপে বলেছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

বন্দরটিতে বর্তমানে শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এখনও আমদানি-রফতানির সংশ্লিষ্ট কোনো অবকাঠামো নেই। অর্থাৎ ওয়্যারহাউস, পার্কিং ইয়ার্ড, অফিস ভবন, ওয়েব্রিজ স্কেল, ডরমিটরি ভবন, নিরাপত্তা রক্ষীদের থাকার ব্যারাক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় স্থলবন্দর হিসেবে বন্দরটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সংযোগ স্থাপন ও রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। গত বছরের ২৫ মে প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর জমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এই বন্দরে দৈনিক ২ থেকে ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছে।
আশা করা হচ্ছে সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আলোর মুখ দেখবে কামালপুর স্থলবন্দর।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.