ইসলামের খেদমতে বঙ্গবন্ধু

২২

স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ নুরনবী ইসলামঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমর রূপকার। বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার। ঠিক তেমনি তাঁর পরিবারও। ২০২০-২১ সালে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, নানান আয়োজনের মধ্যে পালিত হচ্ছে এবছরটি আজ আমরা জানব ইসলাম ধর্মের প্রতি কেমন উদারতা ছিল বঙ্গবন্ধুর।

বঙ্গবন্ধু কখনো ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশকে সব ধর্মের সকল মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। ইসলামের প্রচার প্রসারে বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ড ও অসামান্য অবদান এখনো জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে আছে।

তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, তেমনি বাংলাদেশে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি। এ দুটি অনন্য সাধারণ অনুষঙ্গ বঙ্গবন্ধুর জীবনকে দান করেছে প্রোজ্জ্বল মহিমা।
দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত পদক্ষেপ যেমন নিয়েছিলেন ঠিক তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের কথা মনে রেখে তিনি প্রকৃত ইসলামের প্রচার-প্রসারে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জনমানসে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সমকালীন মুসলিম বিশ্বে এর দৃষ্টান্ত বিরল। ইসলামের প্রকৃত খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আরেকটি অসামান্য অবদান হলো সীরাত মজলিশ প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে পবিত্র মাহে রবিউল আউয়ালে এ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচী গ্রহণ করে। সরকারপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন। সেই থেকে এখনো বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের খেদমতে আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। রাষ্ট্রপরিচালনার অল্পসময়ে তিনি ইসলামের প্রচার প্রসারে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর গৃহিত পদক্ষেপসমুহের মধ্যে ছিল মদ, জুয়া, হাউজি ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধকরণ এবং শাস্তির বিধান ছিল অন্যতম।

বঙ্গবন্ধু তাঁর শাসনামলে হজ পালনের জন্য সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেন। পুনর্গঠন করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (পূর্বে স্বায়ত্তশাসিত মাদ্রাসা বোর্ড ছিল না), ঈদে মিলাদুন্নবী (সা), শব-ই-কদর, শব-ই-বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন এবং উল্লিখিত দিনগুলোতে সিনেমা হলে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আরব-ইসলাঈল যুদ্ধে আরব বিশ্বের পক্ষ সমর্থন ও সাহায্য প্রেরণ করেন। বিশ্ব এজতেমার জন্য টঙ্গিতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেন এবং কাকরাইলের মারকাজ মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য জমি বরাদ্দ দেন। রেসকোর্স ময়দানের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা বন্ধ করেন। রাশিয়াতে প্রথম তাবলীগ জামাত প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।

ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারও উদার মুসলমান। প্রকৃত ইসলাম ধর্মের প্রচার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে ইসলামের নামে ইসলামের লেবাসধারী জেহাদী গোষ্ঠীর অপকর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.