আসছে লকডাউনে শিথিলতা, চলতে পারে লঞ্চ-ট্রেন-বাস।

৯৭৯

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পরিস্থিতি থাকলেও আগামী ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের কয়েকদিন পর পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঈদের পরে আবার কঠোর লকডাউন দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার।

দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে, কর্মহীন মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ও ঈদে মানুষের গ্রামে যাতায়াতের সুবিধার জন্য এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। কারণ, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা লকডাউনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই ভেঙ্গে পরার মত অবস্থা। শুধু গার্মেন্টস সেক্টর ছাড়া অধিকাংশ অর্থনৈতিক খাতই কঠোর লকডাউনের কবলে পড়েছে। তাছাড়া গত দুই সপ্তাহে কঠোর লকডাউন থাকায় নিম্ন মধ্যবিত্ত হতে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। এছাড়া সমাজের অতিরিক্ত দারিদ্র্য ও ছিন্নমূল মানুষের বড় একটা অংশের সব ধরনের আয়ের উৎস বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে গত ঈদুল ফিতরে লকডাউন শিথিল না করার পরও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ে। এর ফলে লকডাউনের নামে এমন অবাধ চলাচলে লকডাউন সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌছায় এবং লকডাউনের গুরুত্ব কমে যায়। আবার অন্যদিকে কুরবানির ঈদ হওয়ায় পশু কেনা বেচার জন্য লকডাউন শিথিলতা প্রয়োজন।এসব দিক বিবেচনা করে আসছে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার চিন্তা চলছে। একই সঙ্গে শপিংমল, দোকানপাটসহ সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সুত্রে জানা যায়, ১৪ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর লকডাউন রয়েছে। এরপর ১৫ জুলাই থেকে বাস-লঞ্চ-ট্রেন, অভ্যন্তরীণ বিমান ও গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। আগের মতো এক সিট ফাঁকা রেখে চলাচল করতে পারে যানবাহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল-দোকানপাটও খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে কীভাবে লকডাউন শিথিল হবে, এটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য বর্তমান করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে অনলাইনে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় কর্মহীন মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারে, সে জন্য যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে যুক্ত থাকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণে গত ঈদুল ফিতরের সময় তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়, যাতে মানুষ গ্রামমুখী না হতে পারে। সড়ক ও মহাসড়কে বাধা দেওয়া হলেও মানুষের চলাচল ঠেকানো যায়নি। তাই মানুষের নিরাপদ গমনাগমনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাই সকল দিক বিবেচনা করে এ-সংক্রান্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ গতকাল রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে আগামী বুধবারের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

90% LikesVS
10% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.