আমতলীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার আগেই ভেঙ্গে পড়েছে

৩০

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ কাজী মোঃ রাইসুল ইসলাম: বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালি গ্রামের আবুল মিম্বারের বাজার সংলগ্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ শেষ করার আগেই দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদার স্বপন মৃধা নির্মাণের কাজ করায় এ বাঁধ দেবে গেছে।তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্য সোনাখালি গ্রামের আবুল মেম্বরের বাজার সংলগ্ন তাফালবাড়িয়া নদী।বর্ষার মৌসুমে ওই নদীর প্রবল স্রোতে বাজার সংলগ্ন ১৩০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায় এতে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে জমির ফসল ও চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়ছে ওই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। ওই ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ রক্ষায় এবং নদীর ভাঙ্গন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ইমারজেন্সি প্রকল্পের অধীনে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

গত বছর নভেম্বর মাসে প্রায় 20 লাখ টাকা ব্যায়ে ১৩০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই কাজ পায় পটুয়াখালী আজাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বাঁধ নির্মাণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাক্কলনে উল্লেখ আছে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা।ওই বাঁধের জন্য কাগজে-কলমে ৩০০ জিও ব্যাগ দেখানো হলেও বাস্তবে তা করা হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয় বারেক প্যাদা ও মনির হাওলাদারের। তারা আরও অভিযোগ করেন বাদ রক্ষায় বাঁশের পাইলিং দেয়া হলে ও তার নিচ নড়বড়ে। আট দিনের মাথায় নড়বড়ে পাইলিং ভেঙে জিও ব্যাগ নদীতে দেবে গেছে এতে হুমকির মুখে পড়ছে ওই বাঁধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ নির্মাণের কাজ করে আসছে বর্ষার মৌসুম এর পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে যাবে। এদিকে বাঁধের ভিতরের পাদদেশ সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ওই বাঁধ ধ্বসে পড়বে।
স্থানীয় নান্নু পেদা বলেন, ঠিকাদার স্বপন মৃধা পাইলিং না করেই জিও ব্যাগ পেরেছেন। ফলে বাঁধে জিও ব্যাগ দেয়ার ৮ দিনের মধ্যেই বাঁধ দেবে গেছে। তিনি আরো বলেন ঠিকাদার নির্মাণের কাজ করায় বৃষ্টি এলেই ওর বাধ ভেঙ্গে যাবে। ঠিকাদার স্বপন মৃধা তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, ঠিকাদার আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেইভাবে কাজ করছি।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোঃ আজিজুর রহমান সুজন বলেন, দেবে যাওয়া স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ ঠিক করে দেয়ার জন্য ঠিকাদার স্বপন মৃধাকে বলা হয়েছে।

বাঁধ দেবে যাওয়া ও নির্মাণের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার স্বপন মৃধা বলেন, প্রয়োজনীয় ও নিয়মমত জিও ব্যাগ করেছি। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুন-আর-রশীদ হাওলাদার বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে আমার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবে সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তিনি আরো বলেন স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ পেয়ে দেবে যাওয়া বাঁধ সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। ওই বাদ আসছে বর্ষা, মৌসুমের টিকবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কাউসার আলম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.