আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিপ্লব

৩০

মোঃ সজীব হোসাইন,ভালুকা,ময়মনসিংহঃ অনেকেই বিপ্লব ও সংগ্রামের স্বপ্ন দেখে। অনেকের স্বপ্ন সর্বোচ্চ শিকড়ে পৌছায়। আবার অনেকের স্বপ্ন পাশে থাকা লোকটিও জানেনা। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী নেতা ছিলেন, হযরত মোহাম্মদ সঃ। তিনি সকল ক্ষেত্রেই সফলতা পেয়েছিলেন।

অনেক সময় সংখ্যায় কম হলেও মূল্যায়ন থাকে বেশি- যেমন গণফোরামের সভাপতিঃ ডঃ কমাল হোসেনের দলে কত সংখ্যক লোক আছে? এরচেয়ে অধিক সংখ্যক লোকের সমাগম রয়েছে- এমনও বহু দল আছে। কিন্তু ডঃ কামাল হোসেনের মূল্যায়ন কতটুকু? আর অন্যদলের সভাপতির মূল্যায়ন কতটুকু? নিশ্চয় ডঃ কামালের মূল্যায়ন বেশি।

পৃথিবীতে ধর্মীয় বিবেচনায়, সমর্থনের দিক থেকে ২য় অবস্থানে রয়েছে- হযরত মোহাম্মদ সঃ এর ধর্ম। তিনি একজন বিপ্লবী সফল রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন। দিনদিন তার সমর্থক বেড়েই চলছে। হযরত ঈসা আঃ (যিশুখ্রিস্ট) একজন ধর্মীয় নেতা হিসাবে সফল ছিলেন। মুসলিম মতে, “ইসলাম আবির্ভাবের ফলে, খ্রিষ্ট ধর্ম বাতিল করেছে, স্বয়ং স্রষ্টা।”

যাইহোক হযরত ঈসা আঃ ধর্মীয় বিপ্লব করতে সক্ষম হয়েছিলেন। চীন দেশে বিপ্লব করতে সক্ষম হয়েছিলেন মাওসেতু্ং। যদি ভারত বর্ষের কথা বলি তাহলে, দেখা যায়- যদিও মহাত্বাগান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ সর্বশেষ আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তবে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশে ব্রিটিশদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমণ হয়েছিল। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ১৯০ বছর এদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়েছে। ব্রিটিশদের উচ্ছেদ করাইছিল এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। একক কোন নেতার নেতৃত্বে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়নি।

রুপকথার গল্প থেকে যা বুঝি, “স্বপ্নবাজ রহিম স্বপ্নদেখে রাস্তার পাশের বড় পাথরটির ভিতরে ১০০টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে। ঘুম থেকে উঠেই হাতুড়ি দিয়ে ৯৯ টি আঘাত করলো, অবশেষে ভাঙ্গতে না পেয়ে আরেক পথিককে ঘটনা খুলে বলল, পথিক হাতুড়ি দিয়ে জুড়ে ১টি আঘাত করল, আর বেড়িয়ে আসলো ১০০টি স্বর্ণমুদ্রা। পথিক রহিমকে ১টি স্বর্ণমুদ্রাও দিতে রাজি নয়। কারণ সে ভাঙ্গতে পারেনি। রহিম বলল, আসো আমরা দুজনে সমান করে ভাগ করে নেই। কিন্তু পথিকও তার সিদ্ধান্তেই অটল। রহিমও তার দাবি ছাড়তে নারাজ। অবশেষে কাজীর কাছে গেল, কাজী সমাধান দিল, রহিম পাবে ৯৯টি পথিক পাবে ১টি। কারণ আগে ৯৯টি আঘাত না করলে পরের ১টি আঘাতে তা দ্বিখণ্ডিত করতে পারতোনা।

১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ১৯০ বছরের আন্দোলনের ফলাফল হল স্বাধীন ভারত বর্ষ(বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত)। ১৯৪০ সালে এ.কে এম ফজলুল হক পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখেই ঘোষণা করেছিলেন- ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। যদিও তার প্রস্তাব ৩০ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু ৩১ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ববাংলা তথা আজকের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। শেখ মুজিব একদিনেই ক্ষমতায় আসেনি ও বঙ্গবন্ধু হয়ে যাননি।

১৯৪০ সালে তথা স্কুল জিবন থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছিলেন- ১৯৭২ সালে ৫২ বছর বয়সে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা।বাংলার মানুষকে ভালবাসার কারণে ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ৪৯ বছর বয়সে পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু উপাধি। ব্রিটিশ শাসকদের জমিদাররা কৃষকের উপর অধিক হারে খাজনা ধার্য করতো, ছিল তাদের আরো নানা নির্যাতন। তবে কিছু জমিদার ছিল মানবিক। জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ করতে আন্দোলন করেছিলেন- দেশবীর মোঃ হোছেন আলী খান বাদেশী। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন- জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে- এবং জমিদার বাড়িতে আক্রমণ করবে। যদিও তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি, কিন্তু অনেক কাজই সম্পূর্ণ করেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাও অনেক কিছু। এই ব্যক্তি পরবর্তিতে ভাষা আন্দোলনে ও স্বাধীনতা আন্দোলনেও অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন পেয়েছিলেন- জীবনের শেষাংশে রাজনৈতিক সফলতা। যারা হঠাৎ ডাক-ঢোল পিটিয়ে মাঠে আসে তারা আবার হঠাৎ উদাও হয়ে যায়। যেমনঃ গণ জাগরণ মঞ্চের বড়-বড় নেতা-নেত্রী। আরো কত কে? আন্দোলন সংগ্রামের কথা বলে মাঠে নামলেই দুই ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরে সফলতা আসবে এমনটি ভাবাও ভুল। বরং আন্দোলন, সংগ্রাম, বিপ্লবের ফল পাওয়ার জন্য করতে হবে অপেক্ষা।

একবার হেরে গেলে আবার, আবার নতুন প্রচেষ্টায় শুরু করতে হবে আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিপ্লব।”

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.