আজ বিজয়ের পতাকা উত্তোলিত হয় ঐতিহ্যবাহী কামালপুর রণাঙ্গনে

৩৩

মেহেদী হাসান,জেলা প্রধান, জামালপুরঃ আজ ৪ ডিসেম্বর, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস।
জানা যায়,১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর রণাঙ্গন। ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জ ছিলো ১১ নং সেক্টরের হেড কোয়ার্টার। এই সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর প্রবেশ ছিলো কামালপুর। আর এ কারনে পাক হানাদার বাহিনী শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলে ছিলো কামালপুরে।

১৯৭১ এর ১২ জুন থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাক বাহিনির ক্যাম্পে মোট ১০ বার আক্রমন করে। সব চেয়ে বড় এবং রক্তাক্ত যুদ্ধ হয় ৩১ জুলাই রাতে। এই সেক্টরের সার্বিক নেতৃত্বে থাকে ভারতীয় ১০১ কমিউনিকেশন জোনের কমান্ডার মেজর জেনারেল গুরুবক্স সিং গিল। কামালপুর – জামালপুর এলাকা দখলের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিগেডিয়ার এইচ এস ক্লের এর নেতৃত্বাধীন ৯৫ মাউন্টেন ব্রিগেডকে। এই ব্রিগেডের দুইটি ব্যাটেলিয়ানকে পাক হানাদার বাহিনীর কামালপুর বিওপি আক্রমনের নির্দেশ দেন মেজর গিল। ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনি হানাদার বাহিনির কামালপুর বিওপিতে আঘাত হানে । মাত্রাতিরিক্ত আর্টিলারি গোলা বর্ষণ করেও তেমন কোন ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। এর পর বিমান হামলার মাধ্যমে পাকিস্থান সেনা বাহিনির বিওপি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়। শুরু হয় বিমান আক্রমণ। প্রতিটি মিশনের পর মেজর জেনারেল গিল পাক বিওপি কমান্ডার ক্যাপ্টেন আহসান কে আত্বসর্মণ করার জন্য একটি করে চিঠি পাঠান। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ৪ ডিসেম্বর শত্রু সেনা বিওপিতে প্রথম চিঠি নিয়ে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমদ বীর প্রতীক। চিঠিতে লেখা ছিল “তোমাদের চারদিকে যৌথবাহিনী ঘেরাও করে রেখেছে। বাচঁতে চাইলে আত্মসর্মপণ কর, তা না হলে মৃত্যু অবধারিত”। বশিরের ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় আরেকটি চিঠি দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জুকে পাঠানো হয় পাকসেনা ক্যাম্পে। চিঠির জবাব না পাওয়ায় শুরু হয় চুড়ান্ত বিমান হামলা। অবস্থা বেগতিক দেখে অস্ত্রসহ পাক বাহিনীর ১৬২ জনের একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্বসর্মণ করতে বাধ্য হয়। হানাদার মুক্ত হয় কামালপুর রণাঙ্গণ। মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কামালপুর মাঠে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদ কামালপুর মুক্তদিবস উপলক্ষে এক বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। এর আগে অনুষ্ঠানটি সফল করতে কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার মধ্যে উদ্বোধক হিসাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি এবং প্রধান পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তাগীর গাজী বীর প্রতীক, এমপি, বিশেষ অতিথি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোরাদ হাসান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল, সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ এমপি, গৃহয়ানও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহাম্মেদ এমপি, সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, জামালপুর-১ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ আসার কথা ছিল।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা দৈনিক সাহসী কন্ঠকে জানান, করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে কামালপুর স্মৃতিসৌধে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। সেখানে উপস্তিতি ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধা, নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা, সহকারী কমিশনার ভূমি স্নিগ্ধা দাস, শফিকুল ইসলাম সম্রাট, ইউপি চেয়ারময়ান মোস্তাফা কামাল, কামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মেসবাউল হক তুহিন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.