আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে অগ্নিসংযোগ ও গুলি বর্ষন

সঞ্জয় বৈরাগী,পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে অগ্নিসংযোগ ও গুলি বর্ষনসহ পাল্টা-পাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কমপক্ষে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে উভয় পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের চালিতাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এসময় দুই দফা সংঘর্ষে হামলাকারীরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে তৈরীকৃত সভামঞ্চে অগ্নিসংযোগসহ প্রায় তিনশতাধিক চেয়ার ভাংচুর করে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারেফ হোসেন খানকে লাঞ্চিত করে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল ইসলাম ও জেলা নেতাদের সামনেই দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকেলে শাখারীকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী দুই গ্রুপের মধ্যে দুই দফা এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। প্রথমে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে একদফা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে আবারও হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউনিয়নের ১নং বাঘাজোড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মোশারেফ শরীফ জানান, আমরা কিছু লোক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সম্মেলন স্থলে এসে দেখি কিছু সন্ত্রাসীরা সম্মেলনের মঞ্চে অগ্নিসংযোগ চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করছে। আমরা এতে বাঁধা দিলে হামলাকারীরা আমাদের উপরও হামলা করে।

সম্মেলনের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম জানান, তিনি সম্মেলন পরিচালনার জন্য মাইকে কথা বলছেন। এ সময় হঠাৎ কিছু অপরিচিত সন্ত্রাসীরা মঞ্চের দিকে এসে অগ্নিসংযোগ, বোমা নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষন করে। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি, ব্যানার ও প্রায় ২ শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশী মো. আল আমীন খান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান গাউসের নেতৃত্বে সভামঞ্চে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান খালেক ঘটনাস্থলে এসে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। এসময় আমরা এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা আমিসহ আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। এতে আমাদের প্রায় ৭০/৮০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।

তবে হামলার সাথে নিজেকে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখারীকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান গাউস বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশী মো. আল-আমীন খানের নেতৃত্বে ওই দিন বিকেলে প্রথম হামলা হয়। এতে আমার কমপক্ষে ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পরের হামলা কারা কিভাবে ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, কোন গুলি বা বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি। উভয় পক্ষের কর্মীদের হামলায় কিছু চেয়ার ভাংচুর হয়েছে।

50% LikesVS
50% Dislikes
Leave A Reply

Your email address will not be published.